আরিফ আজাদ এর পরিচিতি। আরিফ আজাদ এর বই সমগ্র

0
141
আরিফ আজাদ এর পরিচিতি

আজকে আর্টিকেলে আমরা আরিফ আজাদ সম্পর্কে সকল কিছু আপনাদের জানানোর চেষ্টা করব। তার সাথে তার জানা অজানা সকল বইয়ের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব। 

 

আরিফ আজাদ এর পরিচিতি

হঠাৎ করে ইসলামী সাহিত্য জগতে আলোর প্রদীপ হয়ে আসা আরিফ আজাদ ১৯৯০ সালের ৭ ই জানুয়ারি চট্টগ্রামের জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মাধ্যমিক শিক্ষা জীবন শেষ করেন চট্টগ্রাম জেলা স্কুল থেকে। 

এরপর সরকারি একটি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ভর্তি হল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়য়ে। ব্যক্তিগত কারণে তেমন কিছুই প্রকাশ করেননি তিনি। 

এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের কোন ছবি প্রকাশ করেননি তিনি। যার ফলে বেশীরভাগ পাঠক কখনো তার ছবি পর্যন্ত দেখেনি। 

লেখালেখি তার শুরু হয় ২০১৭ সালে ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে। এরপর প্রকাশ হয় আরো কিছু । নিজের লেখা বইয়ের পাশাপাশি করেন সম্পাদনাও। 

২০২০ সালে সমকালীন হাতে প্রকাশ পেয়েছে তার বই ‘বেলা ফুরাবার আগে’। যা পাঠকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। যুক্তি আর মনন কিংবা ইসলামের সঠিক আক্বীদা এ সবকিছু তাঁর লেখা কে দিয়েছে অন্য মাত্রা। 

আরিফ আজাদকে বর্ণনা করতে গিয়ে আরেক ইসলামিক সাহিত্যিক ড. শামসুল আরেফিন বলেছেন, “আরিফ আজাদ  একজন জীবন্ত আলোকবর্তিকা।” 

আর গার্ডিয়ান প্রকাশনী আরিফ আজাদের পরিচয় দিতে গিয়ে লিখেছেন, “তিনি বিশ্বাস নিয়ে লিখেন আর অবিশ্বাসের আয়না চূর্ণ-বিচূর্ণ করেন।” 

আরিফ আজাদের বই মানেই একুশে বইমেলার বেস্ট সেলার। এতটাই জনপ্রিয় এই লেখক। 

বর্তমান সময়ে চারিদিকের এই পাপাচারে ঠিকানা হারিয়ে ফেলা যুবকদের জন্য আরিফ আজাদ যেন এক স্বস্তির নাম, আশার আলো। তার এই ইসলামী সাহিত্য গুলো পড়ে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে যুব সমাজ। 

তার বইগুলো কিনতে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলে এই যুবকরা। যা ইসলামী সাহিত্যের জন্য অনেক স্বস্তির একটা দিক। প্রিয় লেখককে না দেখেও আল্লাহর কাছে অবিরাম ভালোবাসা প্রকাশ করছে পাঠকরা। যে ভালোবাসার প্রকাশ পায় সমকালীন কিংবা গার্ডিয়ান প্রকাশনী স্টলের সামনে। আবার কখনো বা রকমারি ওয়েব পেজে। 

আরোও পড়ুন-

আরিফ আজাদ এর সকল বই

এছাড়া আরিফ আজাদ বলেন, “আমার ফেসবুক পেজটা তো আছেই।”  তাই তো বলাই যায় সময়ের এই ক্রান্তিলগ্নে আরিফ আজাদ যেন আলোর বৈঠা হাতে। তারপরও উনার বই বিক্রিতে নানা বাধা আসছে। 

শুরুতেই চট্টগ্রামের বইমেলাতে কোন স্টলে উনার বই রাখা হয়নি। আবার বাংলা একাডেমির বই এর দোকান গুলোতে নাকি তার বই বিক্রিতে বাধা আসে। কেন এই বাধা? কেন স্টলগুলো তার বই রাখতে চায় না? স্বভাবতই উনার বই বেশি বিক্রি হওয়ার কারণে বইমেলার সকল স্টলে আগ্রহের সাথে রাখার কথা। 

তাহলে বাধা আসে কোন অদৃশ্য শক্তি থেকে? কেন এরকম উনার সাথে হয়? উনি ইসলামিক ধাচের লেখালেখি করে, এটাই কি মূল বাধা? কেন, উনি কি উপ হওয়ার জন্য শিক্ষার্থী অনুপ্রাণিত করে? উনি কি ধর্মের নামে অধর্মের কোন কথা বলে? উনি কি কুরআন-হাদীসের অপব্যাখ্যা করে, উনি কি ধর্মীয় বিদ্বেষ প্রচার করে? যদি না বলেন না করে তাহলে কেন এই বাধা? সংবিধানের সকল ধর্মের সমান স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। 

তাহলে কেউ যদি ইসলামিক হাতের লেখা লিখে, তাহলে সুশীলদের এত চুলকানি হয় কেন সেটা বুঝতে পারিনা। নাকি উনার বই বেশি বিক্রি হওয়ার কারনে সুশীলদের বেশি ভাগ বেড়েছে। যার জন্য তাদের আরিফ আজাদকে সহ্য হয় না। 

আর উনার লেখাতো কখনো মিডিয়া বা পোর্টাল প্রচার করে না। উনাকে নিয়ে কোন পত্রিকায়  কিছুই লেখা হয় না। তবুও তিনি আমাদের কাছে জনপ্রিয়। এবং আমাদের এক আশার আলো। সাথে তার বইগুলোও অনেক জনপ্রিয় আমাদের কাছে। 

আরোও পড়ুন-

১০০+ ইসলামিক বই পিডিএফ 

আরিফ আজাদ যুবকদের হিমু থেকে সাজিদ হওয়ার অনুপ্রেরণা জাগিয়েছে। মা-বাবারা এখন তাদের ছেলে মেয়েদের ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বানাতে চায় না। 

তাদের চায় সাজিদ হিসেবে গড়ে তুলতে। এটাই লেখক এর সবচেয়ে বড় সফলতা যা একটা সমাজের মানুষের চিন্তাধারার পরিবর্তন ঘটাতে পেরেছে। 

তার পরও এই সাফল্যের চাবিকাঠির পেছনে যিনি রয়েছেন, তিনি হৃদয় দিয়ে দেখেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য লিখেন। যার প্রতিফলন আমরা তার লেখার মধ্যে পেয়েছি। 

২০২০ সালে তিনি রকমারির একটি লাইভ প্রোগ্রামে উপস্থিত হয়েছিলেন। তবে সেখানেও তাকে কেউ দেখতে পারেননি, শুনতে পারেননি তার কণ্ঠস্বর। যার কারণে দিন দিন তার প্রতি মানুষের ভালোবাসা বেড়েই চলছে। 

আরিফ আজাদ অনেক সুন্দর সুন্দর কবিতা আর ইসলামিক গান লিখেন। আর মাঝে মাঝে সমকালীন প্রকাশনী টিমের সদস্যদের কেউ কেউ গানগুলোতে সুর দিয়ে গান গুলোকে গায়।

পারিবারিকভাবে দেখাশোনার মাধ্যমে আরিফ আজাদের বিয়ে হয়েছিল। আর আরিফ আজাদ নাকি এত বড় মাপের একজন লেখক, সেটা নাকি উনার স্ত্রী বিয়ের আগে জানতেন না। 

আরিফ আজাদ তার স্ত্রীকে পর্যন্ত উনার লেখক পরিচিতি টা কখনো জানাননি। তিনি প্রচন্ড অন্তর্মুখী স্বভাবের একজন মানুষ। নিজেকে লুকিয়ে রাখার পেছনে অবশ্যই কোনো বিশেষ রহস্য আছে বলে জানান তিনি।  

 

আরিফ আজাদ এর বই সমগ্র

২০১৭ সালে লেখালেখি শুরুর পর থেকে তিনি প্রায়ই অনেকগুলোই বই লিখেছেন। একনজরে তার সকল বই গুলো আমরা দেখে নিই। 

১। প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ

২। বেলা ফুরাবার আগে

৩। মা,  মা,  মা  এবং বাবা

৪। সত্যকথন

৫। প্রত্যাবর্তন

৬। নবী জীবনের গল্প

৭। গল্পগুলো অন্যরকম

৮। আরজ আলী সমীপে

৯। জীবন যেখানে যেমন

১০। জবাব

আরিফ-আজাদ-বই

 

সম্প্রতি এই বছর মানে ২০২১ সালের বইমেলাতে কার দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে। নবী জীবনের গল্প এবং জীবন যেখানে যেমন, এই বই দুটি। বই দুটি অনেক দারুন। আপনারা চাইলে বই দুটি রকমারি থেকে অর্ডার করে কিনে নিতে পারেন। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here