একাত্তরের দিনগুলি–জাহানারা ইমাম। Ekattorer Dinguli pdf download

0
47

একাত্তরের দিনগুলি বই PDF। লেখক জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি বইটির

পিডিএফ আমাদের থেকে সহজে ডাউনলোড করে নিতে পারেন। জাহানারা ইমামের

এই বইটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই। নিচের ডাউনলোড লিংক থেকে বইটি ডাউনলোড করে

নিতে পারবেন। 

একাত্তরের দিনগুলি বইটি সম্পর্কে আরও কিছু

বইয়ের নামঃ একাত্তরের দিনগুলি

লেখক এর নামঃ  জাহানারা ইমাম

বিষয়ঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই

পিডিএফ সাইজঃ ৮ এমবি   

পাতা সংখ্যাঃ ২৬৯

 

একাত্তরের দিনগুলি–জাহানারা ইমাম

একাত্তরের দিনগুলি বই রিভিউ

জাহানারা ইমামের “একাত্তরের দিনগুলি”  বইটি  পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল যেন এক মা

তার হৃদয়ের সবটুকু আদর দিয়ে কোন এক নকশী কাঁথা বুনছেন। যার সব জায়গায়

রয়েছে একফোঁটা যন্ত্রনা। রয়েছে বারুদের গন্ধ, রয়েছে মশালের জৌলুস  এবং রয়েছে

মুমূর্ষু গুলির ঝংকার। সাথে আরও রয়েছে প্রতারক এবং  বিশ্বাসঘাতক কারীদের

প্রবঞ্চনার ছোট ছোট  ঝড় এবং এক মায়ের জীবন কাহিনী। জাহানারা ইমাম এই গতিতে

তুলে এনেছেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ১লা মার্চ ১৯৭১ সাল থেকে ১৬ডিসেম্বর ১৯৭১ সাল

পর্যন্ত। তিনি সম্পূর্ণ গল্পটি লিখেছেন তার ব্যক্তিগত দিনলিপি আকারে। মানে এই দিনে

কি হয়েছে ১৯৭১  সালের,  ওই দিনে কি হয়েছে ১৯৭১  সালের-  এভাবে তিনি সম্পূর্ণ

গল্পটাকে সাজিয়েছেন। বইটি পড়তে গিয়ে মনে হয় যে বইটির লেখিকা নিজের কাছের 

কোন এক আপনজন। এবং আপনজন মনে হয় তার ছেলে রুমী ও জামীকে। 

একাত্তরের দিনগুলি গল্পের মূল চরিত্র গুলোর মধ্যে ছিল বদি, রুমি, জুয়েল,  আলভী ও

আজাদ। এছাড়াও নাম না জানা  আরো অনেক ছেলে রয়েছে। তারা দেশকে অত্যাচার

এবং অন্যায়ের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরলো। তারা জানত না যুদ্ধ কি

আর কিভাবে যুদ্ধ করতে হয়? 

যুদ্ধ করতে গেলে যে আগের প্রশিক্ষণ লাগে,  অস্ত্র লাগে  এবং সবচেয়ে বড় কথা হল

দেশপ্রেম লাগে-  এগুলোর মধ্যে কোনটাই তাদের ছিল না। শুধুমাত্র তাদের আত্মবিশ্বাস

ছিল  তারা দেশটিকে পাকিস্তানিদের অত্যাচারের হাত থেকে মুক্ত করবে। আর এই

থেকেই তাদের যুদ্ধে যাত্রা শুরু। 

অল্প বয়সে তারা মা বাবার আদর ছেড়ে,  পড়ালেখা বাদ দিয়ে চলে গেল প্রশিক্ষণ নিয়ে

যুদ্ধ করতে। তারা প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য গিয়েছিলাম ইন্ডিয়ার মেলাঘরে। কিন্তু তাদের

সেখানে অনেক কষ্টে রাত্রি যাপন করতে হয়েছিল।  কারণ খাবার পানির সংকট ছিল,

সাথে শংকর ছিল প্রয়োজনীয়  ঔষধপত্রের। সে কি কষ্ট তা এক কথায় বলে বোঝানো

সম্ভব নয়। কিন্তু তারা আত্মবিশ্বাস ছিল যে কদিন পরে তারা দেশেকে স্বাধীন করবে এবং

তখন তাদের সাথে  সাথে এদেশের কোন মানুষেরও কোন কষ্ট থাকবে না। 


আস্তে আস্তে শেষ হয়ে যেতে লাগল  রুমি, আজাদ, বদি, জুয়েলের প্রশিক্ষণ। তাদের

মতো সাহসী ছেলেদের নিয়ে বানানো হয় এক গেরিলা বাহিনী।  যার নাম ক্র্যাক প্লাটুন।

তাদের কাজ ছিল হানাদার বাহিনীর ওপর  আক্রমণ চালানো। যতটুকু সম্ভব ক্ষয়ক্ষতি

করে ছো  মেরে পালিয়ে আসা।  তাদের এই আক্রমণ আক্রমণ চলতে থাকলো  এবং

সাথে চলতে থাকলো মানুষের মুখে জয়জয়কার স্লোগান “জয় বাংলা” 

এটা কি মূল গল্প?  নাহ এটা মূল গল্প নয়। এখানে মূল গল্প হল এক মায়ের যে কিনা

তার সব  সন্তানকে যুদ্ধে হারিয়েছেন।  

সংক্ষেপে বলতে গেলে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম মুক্তিযুদ্ধে তার সন্তানকে

হারিয়েছেন। পশ্চিম পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর অতর্কিত হামলায় প্রথমেই ঢাকার

নগর জীবন বিশৃংখল হয়ে পড়েছিল। শিশু-কিশোররা কেউ স্কুলে যাবে না। কিন্তু

আনন্দের বাহিনীর জোর করে স্কুল-কলেজ খোলা রাখবে।  বিখ্যাত ব্যক্তিদের নিয়ে

জোর করে রেডিও-টিভিতে বিবৃতি প্রদান করাবে।  আর হত্যা লুণ্ঠন,অগ্নিসংযোগ তো

আছেই। এগুলোই ছিল সেই সময় ঢাকা করুন অবস্থা। এই গল্পে সেই দুর্বিষহ অবস্থার

মর্মন্তুদ বিবরণ পাওয়া যায়। বিশেষ করে গর্ভজাত সন্তানকে বাচাঁনোর জন্য হানাদার

বাহিনীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে লেখিকা যে আত্মমর্যাদা ও স্বাধিকার চেতনা পরিচয়

দেন তা তুলনারহিত। গভীর বেদনার সঙ্গে আভাসে-ইঙ্গিতে  তিনি তার হৃদয়ের রক্তক্ষরণ

এর কথা ব্যক্ত করেছেন এই গল্পে। সম্পূর্ণ গল্পটি পড়তে চাইলে আমাদের এখান থেকে

“একাত্তরের দিনগুলি”  বইটির পিডিএফ ডাউনলোড করে নিন। 


Ekattorer Dinguli pdf download

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here