জীবন যেখানে যেমন বই PDF- আরিফ আজাদ । ই বই পিডিএফ

0
306
জীবন-যেখানে-যেমন

২০২১ সালের বইমেলায় বাহির হওয়া ‘জীবন যেখানে যেমন’ বইটির লেখক আরিফ আজাদ। এটি একটি ইসলামিক বই। বইটি খুবই অসাধারণ। আজ আমাদের এখানে বইটি সম্পর্কে সকালে কিছু জানতে পারবেন। বইটিতে কি রয়েছে, না রয়েছে সকল কিছু। 

 

জীবন যেখানে যেমন বই রিভিউ 

‘জীবন যেখানে যেমন’ বইটির লেখক আরিফ আজাদ ভাইকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছুই নেই। বর্তমান সময়ে তিনি একজন স্বনামধন্য পরিচিত লেখক। এর আগে সমকালীন প্রকাশনী থেকে তার বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। 

যার মাঝে আছে এই বেলা ফুরাবার আগে, মা, মা, মা এবং বাবা, প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ, প্রত্যাবর্তন, আরজ আলী সমীপে। জীবন যেমন যেখানে একটি গল্পের বই। 

আবার এটাকে শুধু কিন্তু গল্পের বই বলা চলে না। মূলত তাদের জীবন ইসলামী জীবনাদর্শের তাদের জীবনকে নিয়ে লেখা এই গল্পের যাদের জীবন ইসলামিক দৃষ্টিকোণের আলোকে গড়া তাদের জন্য এই বইটি। 

এ বইটি লেখার উদ্দেশ্য সম্পর্কে লেখক আরিফ আজাদ বলেন, “বাংলা সাহিত্যের স্বনামধন্য লেখক যারা রয়েছে তাদের কাছে যখন ইসলামী জীবনাদর্শের কোন বই লেখা হয়, তারা ঘুরে ফিরেই সেটাকে বাংলা সাহিত্য থেকে বের করেই ইসলামিক সাহিত্যের দিকে ঠেলে দেন। 

কিন্তু একই সময় যখন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু বা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত লেখকরা তাদের পূজা-অর্চনা সম্পর্কে যখন কিছু লেখে, তখন কিন্তু সেটাকে হিন্দু সাহিত্য বলা হয় না। সেটাকে বাংলা সাহিত্যের মধ্যেই রাখা হয়।” 

আরও পড়ুন,

আরিফ আজাদ এর পরিচিতি। আরিফ আজাদ এর বই সমগ্র

এর থেকে পরিত্রাণের জন্যই লেখক আরিফ আজাদ একটি পথ খুঁজে পেয়েছেন। সেটি হল বাংলা সাহিত্যে ইসলামী জীবনাদর্শের বই বেশি বেশি করে লেখা। এই পথ অনুসরণ করেই তিনি তার প্রথম বই, যেখানে সাহিত্যিক আঙ্গিকে ইসলামিক জীবনাদর্শকে তুলে ধরা হয়েছে, সেই বইটি হচ্ছে “জীবন যেখানে যেমন।”  জীবন যেখানে যেমন বইটিতে মোট গল্পের সংখ্যা ১৪টি। 

এই গল্প গুলোর নাম গুলো হচ্ছে, 

১। অশ্রু ঝরার দিনে 

২।  এই প্রেম,  ভালোবাসা

৩। আসমানের আয়োজন 

৪। চাওয়া না-চাওয়া

৫। এক বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যা 

৬। জীবনের রকমফের 

৭। কি ধরনের গান 

৮। বিশ্বাস 

৯। সুখ 

১০। বাবাদের গল্প 

১১। বোধ

১২। টু-লেট

১৩। মহীয়সী

১৪। সফলতা সমাচার 

এখন বইয়ের প্রথম গল্প “অশ্রু ঝরার দিনে” নিয়ে একটু আলোচনা করা যায়। আমি চাইলে সবগুলো গল্প নিয়ে আলোচনা করতে পারি। কিন্তু আগে আগেই সব গল্পের আলোচনা করে ফেললে, আপনাদের হয়তো বইটি পড়তে ভালো লাগে না আর। তো আসুন,  যেমন কথা তেমন কাজ করে ফেলি। 

জীবন-যেখানে-যেমন

অশ্রু ঝরার দিনে গল্পে মূল কাহিনীর পাশাপাশি পারিপার্শ্বিকের যে একটা বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, মূল গল্পের সঙ্গে বইটির যে বর্ণনা, মানে প্রকৃতির যে বর্ণনা দেয়া হয়েছে, সেটা কিন্তু একটা বড় মাপের সাহিত্যিক এর মত লিখেছেন লেখক আরিফ আজাদ। 

আপনারা যখন জীবন যখন যেখানে বইটির প্রথম গল্পের পাশাপাশি অন্য গল্প গুলো যখন পড়বেন, তখন একটা বিষয় বুঝতে পারবে যে প্রকৃতির সুন্দর বর্ণনা কিভাবে তিনি তুলে ধরেছেন এবং এই বিষয়টিকে যেকোনো বড় মাপের সাহিত্যিক লেখক এর সাথে তুলনা করবে। 

গল্পের কাহিনী টা হচ্ছে এরকম, শহিদুল ইসলামের স্ত্রী হচ্ছে মিনু। শহিদুল ইসলামের বাবার চাওয়াতেই শহিদুল ইসলামের সঙ্গে মিনুর বিবাহ হয়। কিন্তু মিনুর ভাগ্য এতটাই খারাপ যে, যেদিন সে প্রথম তার স্বামীর বাসায় ওঠে, সেদিন রাতেই তার শ্বশুর মারা যায়। সবাই তখন বলাবলি শুরু করে যে, ‘এই মেয়ে অলক্ষণে।’ 

কিন্তু কথাটা তখন মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে নি। তার কিছুদিন পর তাদের বাসার একটা গাভী মারা যায়। গাভীটি ছিল সুস্থ-সবল। আরো কিছু মানুষ বলাবলি শুরু করে যে মেয়েটা আসলেই একটা অলক্ষুণে। সকলের কথার ওপর না পেরে শহিদুল ইসলাম তার স্ত্রীকে নিয়ে শহরের একটি  ভাড়া বাসায় গিয়ে ওঠে।

সেখানে তাদের একটা সন্তান হয়। হঠাৎ তাদের একদিন সুস্থ সবল সন্তানের আমাশয় ধরা পড়ে। যার হলে সেই আমাশয় এর কারণে তাদের সন্তানটি মারা যায়। গল্পটির শুরুটা হয়ই এইভাবে, শহিদুল ইসলাম তার মৃত সন্তানকে নিয়ে শহর থেকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসে।

আরও পড়ুন,

আরিফ আজাদ এর সকল বই

তারা গরুর গাড়িতে করে আসছে। গরুর গাড়ি থেকে নামার পর সে তার বাচ্চাকে হাতে নিয়ে কাঁদছে। তার পাশে বসে আছে মিনু। তার চোখে পানি নেই। হঠাৎ করে শহিদুল ইসলামের খালা বলে ওঠে এই মেয়েটা একটি রাক্ষসী মেয়ে। এতদিন যা যা হয়েছে, সবই তার জন্য হয়েছে। পাশ থেকে শহিদুল ইসলামের মাও একই কথা বলেছে। মিনু অসহায়ের মত তার স্বামীর দিকে একবার তাকালো।

কিন্তু সেদিন শহিদুল ইসলাম তার মায়ের কথার বিরুদ্ধে  যেতে পারলেন না। সেদিন দুটি ঘটনা ঘটলো। এক মিনুর সাথে শহিদুল ইসলামের ডিভোর্স হয়ে গেল, দুই শহিদুল ইসলামের সাথে তার পাশের বাসার এক মেয়ের বিয়ে হয়ে গেল। নতুন বিয়ের কিছুদিন পরেই শহিদুল ইসলামের কাজের জন্য শহরে যেতে হবে। তিনি একাই যাবেন। কারণ তার নতুন স্ত্রীর সঙ্গে তার মায়ের অনেক ভালো একটা সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। 

যেদিন তিনি যাবেন, সেদিন তিনি লক্ষ করেন যে  মিনু ভুল করে তার ব্যাগ ফেলে গেছে। ব্যাগ খুলতেই সেখানে একটি চিঠি পান তিনি। 

সেখানে লেখা, “ভাববেন না যে, আমি আমার দোষ গুলো সম্পর্কে আপনার কাছে বলতে এসেছি। আমার সন্তানের মৃত্যুর জন্য আমি দায়ী। এই কথাটি আমি সহ্য করতে পারছিনা। আপনার পাশাপাশি সন্তানটি আমারো। আমি নয় তাকে গর্ভে ফোন করেছি। আমার সন্তানের জীবন আমাশয় ধরা পড়ে, তাজবী-রতে তার সেবা যত্ন করেছি। 

এটা কিন্তু আপনাকে জানাইনি আমি। আমি সেদিন কেন কাদেনি জানেন? আমি সেদিন না কাদার পেছনে কারণ হচ্ছে আমি সেই সবটুকু কান্না জায়নামাজে কেঁদেছি।” এই বলে সে একটি হাদিস শোনায় তার স্বামীকে, “যখন আল্লাহর কোন বান্দার মৃত্যু হয়, তখন আল্লাহতালা ফেরেশতাদের জিজ্ঞাসা করেন যে, তোমরা কি আমার বান্দার সন্তানের জান কবজ করেছ? 

তখন ফেরেশতারা বলেন, জি। তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা তখন কি রকম আচরণ করছিল? তখন ফেরেশতারা বলেন, এখন আপনার বান্দা ধৈর্য  ধারণ করেছে এবং বলেছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে এসেছে এবং একদিন আল্লাহতালার কাছেই ফিরে যাবে। 

তখন আল্লাহ তাআলা খুশি হয়ে ফেরেশতাদের বলেন, আমার এই বান্দার জন্য জান্নাত একটি বাসা তৈরি করে দাও এবং সে বাসার নাম দাও “প্রশংসিত বাড়ি”।” এই ছিল হাদিস। এই জন্য সেদিন মিনু কান্না করেনি। তার সন্তানের ভালোর জন্য। এই চিঠিটা পড়ার পর শহিদুল ইসলাম একটি দীর্ঘশ্বাস নেন। 

উপরে আমি শুধু গল্পটি বললাম। আরিফ আজাদ গল্পটিকে সুন্দর ভাষা এবং পারিভাষিক এর সাথে সাজিয়েছেন। যা পড়তে একটু অন্যরকম লাগবে। সুতরাং আপনার গল্পটি পড়লেই বুঝতে পারবেন। 

বইটির পিডিএফ এখনো হাতে পাইনি। তবে পেলে আমরা সেটি আপনাদের দিয়ে দেব। এখন বলতে পারেন, আমি কিভাবে জানবো যে আপনারা পিডিএফ পেয়েছেন কিনা? তার জন্য আপনাকে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকতে হবে। আমাদের ফেসবুক পেজ এর লিংক- ই-বই পিডিএফ

বইটির পিডিএফ আসার সাথে সাথেই আমরা ফেসবুক পেজে দিয়ে দেবো। আপনি সেখান থেকে পিডিএফ কালেক্ট করে পড়তে পারবেন। তবে আপনারা যদি চান বইটি রকমারি থেকে অর্ডার করে কিনে দিতে পারেন। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here