শেষ অধ্যায় নেই- সাদাত হোসাইন

0
90

লেখক সাদাত হোসাইনের শেষ অধ্যায় নেই বইটির পিডিএফ আমাদের থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। Shesh Oddhay nei Book PDF

বইটি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য

বইটির নামঃ শেষ অধ্যায় নেই

লেখকের নামঃ সাদাত  হোসাইন

ভাষাঃ বাংলা

বিষয়ঃ উপন্যাস

পিডিএফঃ শিঘ্রই আসছে বা রকমারি থেকে কিনুন 

শেষ অধ্যায় নেই- সাদাত হোসাইন

 

 

শেষ অধ্যায় নেই বই রিভিউ

যখনই কোনো পাঠক কোনো লেখকের গল্পের প্রতিটি মোড় আগে থেকেই অনুমান করতে পারেন, তখনই সেই লেখক থ্রিলার লেখক হিসাবে ব্যর্থ হয়। এই কথাটাই  ঠিক মনে হয়েছে আমার ”শেষ অধ্যায় নেই” পড়তে গিয়ে। আজকে দুপুরে এসে হাজির হয়েছে বইটা । একটানা পড়ে শেষ করলাম । আগে থেকেই বলে রাখি যে এই গল্পের কাহিনী সংক্ষেপে আমি মোটামুটি সব ঘটনাই বর্ণনা করবো এখানে। সুতরাং বইটি আপনার কাছে নতুন হলেও বা বইটি মাত্র ডাউনলোড করে পড়া শুরু করার আগে কিছু কাহিনী বুঝে যাবেন। হয়তো এরপর আর আপনার বই পড়ার আগ্রহ জন্মাবে না।

 

এই গল্পের দুই মুল চরিত্রের মধ্যে একজন হচ্ছে বিখ্যাত লেখক যার নাম শফিক শাহরিয়ার । পরিবারের বলতে তার বাড়িতে বউ আর একটি আট বছরের মেয়ে আছে। একজন প্রেমিকাও তার আছে, বাজারে যাকে নিয়ে অনেক রকম ভালো ভালো খবরও বিদ্যমান রয়েছে। এই কারণে তার বউ নাজনীন বাপের বাড়ি চলে গেছে  তাকে ছেড়ে। এর জন্য লেখক শফিক সাহেব বেশ বিপর্যস্ত মানসিক ভাবে। ফলে রাতে সে ঘুমাতে পারে না, রাতে কোন লেখালেখি করতে পারছেন না।

সদৃশ প্রকাশক হিসেবে লেখকের একজন পিতা রয়েছে যে কিনা লেখকের প্রথম বই ছাপিয়ে ছিলো এবং তার লেখক হিসেবে বিখ্যাত হয়ে ওঠার পেছনে সেই প্রকাশকের বড় অবদান রয়েছে। এখনও তার  বেশ গভীর সম্পর্ক রয়েছে লেখকের সাথে। এখন তার প্রকাশনা তার ছেলেরা সামলায় এবং শফিক সাহেবের লেখা বইয়ের কারণেই তাদের সেই প্রকাশনাটি আজ পর্যন্ত টিকে আছে । সাথে সেই প্রকাশকের পরিবারও টিকে আছে ।

শফিক শাহরিয়ারের বই নেওয়ার জন্য নতুন আরও দুজন প্রকাশক রয়েছে যারা তার পেছনে লেগে রয়েছে । লেখকের আগামী নতুন সকল বই তাদের প্রকাশনা থেকে বের করার জন্য লেখক এর সাথে এমন চুক্তি করতে ইচ্ছুক সেই দুইজন প্রকাশক। এছাড়াও লেখকের বই থেকে সিনেমা বানানোর জন্য আরেকজন প্রোজেযোক তার পেছনে লেগে রয়েছে। এমনকি বই প্রকাশের আগেই মুভি বানাতে ইচ্ছুক যদি তা সম্ভব হয়।

লেখক মশাই আস্তে আস্তে প্রেমিকা তৃনাকে এড়িয়ে চলা শুরু করেছেন। কারণ তিনি এখন নিজের সংসার বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তবে তৃনার বিষয়টি নিয়ে খানিকটা অপরাধী তিনি নিজেকে মনে করেন। তাই তিনি একটা উপায় খুঁজছেন যাতে তৃনার পেছনে বেশ কিছু টাকা খরচ করে তাকে একটা ভালো পজিশনে পৌছে দেওয়া যায়। যদিও এই বিষয়টি গল্পে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়নি।

এখন একটা রহস্য উপন্যাস লেখার জন্য লেখক সাহেব তার এক বন্ধুর টিএস্টেটে গিয়ে হাজির হয়। তার এই উপন্যাসটি প্রথম রহস্য উপন্যাস হবে। 

 

ইতিমধ্যে এটা নিয়ে সে আগে অনেক স্থানে অনেক কথা-বার্তাও বলে ফেলেছে। এই উপন্যাসের জন্য পাঠক মহলে আগ্রহ অনেক। হাজির হয় সে টিএস্টেসে । লেখা লেখি শুরু করে গেস্ট হাউজে বসে। তার গেস্ট হাউজের পরেই এস্টেটের সীমানা।  কিছু অংশ ভাঙ্গা সেখানে। হঠাৎ একদিন রাতে গীর্জার ঢং ঢং আওয়াজে তার ঘুম ভেঙ্গে যায় এবং জানালা দিয়ে সে খেয়াল করে দেখে যে আলো হাতে সেই ভাঙ্গা অংশে কয়েকজন মানুষ কি যেন করছে। তার মনে এক অজানা সন্দেহের উদয় হয়। এমনকি এটা নিয়ে সে অনুসন্ধানও শুরু করে দেয়। সে অনুসন্ধান করে আবিস্কার করে যে প্রতিদিন গীর্জাতে ঢং ঢং বেজে ওঠে না। আবার শহরের সব স্থানে বিদ্যুৎ না গেলেও চা বাগানে বিদ্যুৎ চলে যায় নির্দিষ্ট কো এক রাতের কোন এক নির্দিষ্ট সময়ে। আবার সেদিন প্রতিদিন কার মত অটোমেটিক জেনারেটর চালু হয়ে যায় না। অন্ধকারে পুরো চা-বাগান ঢাকা থাকে। লেখক তার এই অনুসন্ধান থেকে জানতে পারে যে চা বাগানে কিছু অবৈধ কাজ কারবার চলতেছে এবং বেশ কিছু মানুষ এর সাথে জড়িত রয়েছে। একদিন সে অনেক কিছু দেখতে পারে নিজের চোখেই।

এদিকে তার নিজের লেখা সেই নতুন রহস্য উপন্যাসটি প্রায় শেষ হয়ে যায়। কেবল উপন্যাসের শেষ অধ্যায়টা লেখা বাকি। সে পরিকল্পনা করে যে, উপন্যাস এর শেষ অধ্যায় লেখার আগে, টিএস্টেটে পরিচিত কিছু মানুষকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে আসবে। আড্ডা দিয়ে । সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হয় এবং তার দাওয়াতে সবাই আসেও। তার স্ত্রীও আসে সে দাওয়াতে এবং সাথে আসে তার প্রেমিকাও, যদিও তার প্রেমিকাকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। সেখানে দুজনের মুখোমুখি ঝামেলা হওয়ার কারনে সব কিছু এলোমেলো হয়ে যায়।

তখন লেখক শফিক সাহেব খুবই বিরক্ত হয়ে পড়ে এবং রুমে গিয়ে সে ড্রিংক করে। অন্যান্য গেস্টরা রাতের খাবার শেষে যে যার ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ে। লেখক সাহেবকে সেই দিন ভোরে গেস্ট রুমের পেছনে যে খাদ রয়েছে সেখানে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মদ খেয়ে মাতাল হয়ে সে খাদ থেকে পড়ে গিয়েছে প্রাথমিক ভাবে এই বিষয়টি ধারণা করা হয় ।

 

এবার আশা যাক গল্পের আরেক দ্বিতীয় প্রধান চরিত্র রেজা হক এর কথায়। যে কিনা লেখকের বড় ভক্ত। লেখককের প্রায় সব বই তার পড়া তার। লেখক এখানে আছেন জেনে আগে একদিন লেখকের সাথে কথাও হয়েছিলো তার। লেখক সাহেব তাকে চাবাগানে ঘটা অবৈধ বিষয়টা জানাতে গিয়েও জানাতে পারেনি। পার্টিতে তাকেও দাওয়াত দেওয়া হয়েছিলো। তবে সেই ভক্ত কাজের কারণে আসতে পারে নি । তদন্ত শুরু করে রেজা হক এবং এক সময়ে সে চা বাগানের চোরাকারবীর কাজ চলছে এ বিষয়টি খুজে বের করে ফেলে। কিছু পরিচিত মুখ এর সাথে চাবাগানের জড়িত। কে কে জড়িত সেটা এখন আর বললাম না। তাহলে হয়তো গল্পটি পড়ার আগ্রহ একদমই চলে যাবে। তাদেরকে জেরা করেই জানা যায় যে রাতের বেলা যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়েছিল, তারা তখনই লেখককে খাদ এর সামনে নিয়ে গিয়ে তাকে নিচে ফেলে দেয়। তখন পাঁচটা বেজে আরো কিছু সময় পার হয়ে গিয়েছে। রহস্য যখন সমাধান হয়ে গিয়েছে তখন ওটোপসি রিপোর্ট থেকে জানা যায় যে লেখকের মৃত্যু পাহাড় থেকে পড়ে নয় বরং আরও রাত তিনটার দিকে হয়েছে বিষক্রিয়ায়। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে যে ঐ চোরাকারবারীরা একজন মৃতমানুষকে খাদে ফেলেছে।

তাহলে এখন প্রশ্ন হল যে লেখককে আসলে কে খুন করেছে?

আবারও তদন্ত শুরু হল। শ্রীমঙ্গল থেকে ঢাকা এসে রেজা হক কাজ শুরু করে। এবার সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়  সবাইকে এবং এর জন্য জেরা করা হয় সকলকে। এক সময় কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয় এর জন্য। পরে রেজা হককে কেস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় । রেজা হক আবারও শ্রীমঙ্গল ফিরে যায় কিন্তু আসল আসামী ধরা পড়েনি বলে তার মানে শান্ত পায় না। এবার রেজা হক লেখকের শেষ উপন্যাসটাও পরে ফেলে। সেই উপন্যাসটাও ছিল এক লেখককে  নিয়ে। 

সেও একটা রহস্য উপন্যাস লিখতে শুরু করে এবং একইভাবে সেটা শেষ করার আগে খুন হন। কিন্তু লেখক তার স্ত্রীকে শেষ অধ্যায় লেখার আগে একটা চিঠি লিখে রেখে যায় যেখানে খুনী কে সেটা বলা রয়েছে। পরে স্ত্রী সেটা বের করে ফেলে। রেজাও ঠিক তেমনি সেই উপন্যাস পরে সেই চিঠির অর্থ উদ্ধার করে এবং কে আসলে খুন টা করেছে এক সময়ে সে প্রমান পেয়ে যায়। 

সাদাত হোসেনের সবগুলো বই আসলে খুবই দারুন। তেমনি এই বইটিও।

শেষ অধ্যায় নেই pdf download।। Shesh Oddhay nei pdf by Sadat Hossain 

 

লেখক সাদাত হোসেনের অন্যান্য সকল বইয়ের পিডিএফ ডাউনলোড করার জন্য আমাদের সাথে থাকুন এবং যেকোন বই এর পিডিএফ দ্রুত পাওয়ার জন্য আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন। 

সাদাত হোসেনের নতুন বই- তোমার নামে সন্ধ্যা নামে

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here